একটি ওয়েবসাইট দিয়ে হতে পারে আপনার সারা জীবনের স্থায়ী উপার্জন

Spread the love

প্রিয় পাঠক আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণের জন্য এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আর্টিক্যালটি বিস্তারিত পড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

আমরা সব সময়ই বলি, অনলাইনে আয়ের দুটি রাস্তা। এক, চাকরি করা এবং দুই, ব্যবসা করা।
আমাদের বাস্তব জীবনের মত অনলাইনেও আমরা চাকরি এবং ব্যবসা দুটোই করতে পারি।

আপনারা অনলাইনের একটি স্থায়ী ইনভেস্ট সম্পর্কে জানুন যেটি আপনি একবার করলে সারাজীবন এর ফল ভোগ করতে পারবেন। আর এমনই একটি ইনভেস্ট হচ্ছে একটি নিজস্ব ‘ওয়েবসাইট’। একটি ওয়েবসাইট হতে পারে আপনার সারা জীবনের স্থায়ী উপার্জনের ক্ষেত্রে। তাহলে চলুন দেখি কিভাবে তা সম্ভব?

শুরুতেই একটু জানি, মানুষ কেন ওয়েবসাইট তৈরি করে?
একটি ওয়েবসাইট হচ্ছে আপনার যে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার অনলাইন পরিচয় বা আইডেন্টিটি। যে কোন কোম্পানি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা সংস্থা ইত্যাদি সকল প্রতিষ্ঠান তাদের নামে ওয়েবসাইট করে থাকে যাতে করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের সম্পর্কে জানা যায় এবং তাদের পরিচয়, বিভিন্ন বিষয়, সেবা অথবা সার্ভিস সম্পর্কে মানুষ যেন সহজেই জানতে পারে। এই জাতীয় ওয়েবসাইট গুলো হচ্ছে মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট।

কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের বাইরেও কিন্তু রয়েছে আরও প্রচুর ওয়েবসাইট যেগুলো হচ্ছে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক। এই ধরণের ওয়েবসাইটগুলোতে সাধারণত বিভিন্ন টিপস, ট্রিক, আইডিয়া, বিনোদন, খবর ইত্যাদি বিষয় দেয়া হয়ে থাকে। এই গুলোকে আপনি অ-প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটও বলতে পারেন। এই ধরনের ওয়েবসাইটগুলো করা হয় সাধারণত আর্কাইভের জন্য সখের বসে অথবা দীর্ঘসময়/লং টাইম ফল ভোগ করার জন্য।

যেমন ধরুন, বাংলা ভাষায় বর্তমানে সবচেয়ে বড় টেকনোলোজি সাইট হচ্ছে ‘টেকটিউনস’। এটা কিন্তু কোন প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট নয়। এটি হচ্ছে টেকনোলজি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট বা ব্লগ যেখানে বিভিন্ন মানুষ বা লেখকেরা ‘টেকটিউনস’ কর্তৃপক্ষের ‘শর্ত মেনে’ টেকনোলজি বিষয়ে তাদের বিভিন্ন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। এতে করে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক টেকটিউনসে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিষয় জানার জন্য, শেখার জন্য। তাহলে টেকটিউনস হচ্ছে একটি নন-প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট।

ঠিক একই ভাবে আপনিও যদি এই ধরনের একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠা করে ধৈর্য্য ধরে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে পারেন তাহলে আপানার বাকী জীবন এই ওয়েবসাইট দিয়েই চালিয়ে দিতে পারবেন যদি আপনি বুদ্ধিমান হন।

👉আপনার ব্যবসার Digital Identity তৈরি করার জন্য ‘ভার্সডসফট’ সবসময় আছে আপনার পাশে।

তাহলে কিভাবে একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে আয় করা যায়?
শুরুতেই বলে নেই, নতুনদের মাঝে ওয়েবসাইট বা ব্লগ নিয়ে বেশ ভাল রকমের কনফিউশন দেখা যায়। আসলে ব্লগ হচ্ছে এক ধরনের ওয়েবসাইট যেখানে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে লিখালিখি করা হয়। সেটা হতে পারে যে কোন বিষয়। আর ওয়েবসাইট হচ্ছে এক ধরনের সাইট যেখানে সাধারণত তেমন কোন চেঞ্জ হয় না, বা যেখানে লিখালিখির ব্যাপার থাকে না বা কম থাকে। আপনি ওয়েবসাইট বা ব্লগ যেটাই করুন না কেন সেখান থেকে অবশ্যই আয় সম্ভব। চলুন সামনের দিকে এগুনো যাক। তবে বর্তমানে অনেকে ডায়নামিক চিন্তা করে ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ব্লগের অপশনটিও চালু করে আস্তে আস্তে সমৃদ্ধ করে। এতে একই প্ল্যাটফর্মে দুটো জিনিস পাওয়া যায়।

আলোচনার এই পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ উল্লেখ না করলেই নয়। অনেকে না বুঝে বা না জেনে একটি ‘বড় ভুল’ করে থাকেন। আর তা হচ্ছে নিজের ব্যবসা, প্রতিষ্ঠান বা আয়ের জন্য ‘নিজস্ব ওয়েবসাইট’ নির্মাণ না করে ‘ফ্রি প্ল্যাটফর্ম’ ব্যবহার করেন। ‘ফ্রি প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে- ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, ব্লগস্পট, ব্লগসাইট ইত্যাদি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই ফ্রি প্ল্যাটফর্মগুলোয় অবস্থিত সেই ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা সংক্রান্ত পেইজ বা আইডিটি যে কোন সময় যে কোন কারনে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ, সেগুলোর মালিকতো অন্য কেউ, আপনি নন। তাহলে একবার ভেবে দেখুন, দীর্ঘ একটি সময় আপনি এই ফ্রি প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। যখনই সেই ফ্রি প্ল্যাটফর্মের পেইজ বা আইডিটি যে কোন কারণে বন্ধ হয়ে যাবে তখন আপনি কি করবেন? তখন নিশ্চিতভাবে আপনার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়বে। আপনাকে কিন্তু আবারও শুরু থেকেই শুরু করতে হবে।
তাই নিজেই সিদ্ধান্ত নিন। আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য কি ‘ফ্রি প্ল্যাটফর্ম’ ব্যবহার করে সবসময় ঝুঁকিতে থাকবেন? নাকি নিজস্ব ডায়নামিক একটি ওয়েবসাইট নির্মাণ করে ফ্রি প্ল্যাটফর্মগুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনার ব্যবসা পরিচালনা করবেন?

ওয়েবসাইট থেকে আয় করার অনেকগুলো পদ্ধতি রয়েছে।
নিচে সংক্ষেপে কয়েকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হলঃ
১. বিজ্ঞাপন থেকে আয়ঃ আপনার ওয়েবসাইটে যদি বেশ ভাল ট্রাফিক (ট্রাফিক হচ্ছে ভিজিটর বা মানুষ যারা আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করে) থাকে তাহলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে অন্যান্য কোম্পানীর বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করিয়ে সেখান থেকে আয় করতে পারেন।

যেমন- আমরা প্রায় সময়ই বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ঢুকলে ওয়েবসাইটের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পন্যের বা কোম্পানীর বিজ্ঞাপন দেখে থাকি। এই জাতীয় বিজ্ঞাপনগুলো ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করানোর মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারেন। আপনার ওয়েবসাইটে যে কোম্পানির বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাবেন সেই কোম্পানী তাদের বিজ্ঞাপন আপনার ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করানোর জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট মূল্য পে/প্রদান করবে। এটি বর্তমান সময়ে অনলাইন আয়ের অন্যকম সেরা একটি মাধ্যম।

👉আপনার ব্যবসার Digital Identity তৈরি করার জন্য ‘ভার্সডসফট’ সবসময় আছে আপনার পাশে।

উদাহরণস্বরুপ বলা যায়- আমরা যখন ইউটিউব বা অন্য কোন নিউজ পোর্টালে ভিজিট করি তখন বিভিন্ন বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। আবার কিছু বিজ্ঞাপন এমনভাবে দেওয়া থাকে যে, বিজ্ঞাপনটি আপনি দেখতে বাধ্য। এই যে আপনি বিজ্ঞাপনটি দেখলেন এই জন্য বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি ঐ প্ল্যাটফর্মের মালিককে একটি নির্দিষ্ট নিয়মে অর্থ প্রদান করবে।

তাহলে এবার বলতে পারেন, এই সকল কোম্পানির বিজ্ঞাপন পাব কোথায়? এই ধরনের বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য অনলাইনে অনেক জনপ্রিয় সাইট আছে (যেমন- গুগল অ্যাডসেন্স)। এই সকল সাইট থেকে কিভাবে অ্যাড নিবেন এবং কিভাবে আয় হবে সেটা নিয়ে ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে বিস্তারিত আলচনা করা হবে। এখন শুধু ওয়েবসাইট থেকে আয় করার কিছু প্রসেস সম্পর্কে জানি।

২. নিজের কোন পণ্য বিক্রি করে আয়ঃ আপনার ওয়েবসাইট যদি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং প্রতিদিন বেশ ভাল ট্রাফিক থাকে তাহলে আপনি আপনার নিজের তৈরি করা কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন সেখানে দিতে পারেন এবং সেখান থেকে আপনি আপনার পণ্যের জন্য বেশ ভাল সেল পেতে পারেন। তবে এটা শুধুমাত্র, যদি আপনার তৈরি করা কোন পণ্য/প্রোডাক্ট থাকে তাহলেই সম্ভব। আপনার যদি বিক্রি করার মত কোন পণ্য না থাকে তাহলে এই ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।

এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যারা ই-কমার্স ব্যবসা করতে আগ্রহী বা ইতিমধ্যে ব্যবসা করছেন তারা একটি ওয়েসাইট নির্মাণ করে তাদের ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারণ করতে পারেন।

৩. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়ঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অনেকটা সেলসম্যান এর মত। এখানে, আপনাকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য বিক্রি করে দিতে হবে এবং প্রতিবার যখন আপনি অন্য কোম্পানির কোন পণ্য আপনার নিজের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবেন তখন আপনাকে সেই বিক্রয়কৃত অর্থ থেকে কমিশন দেয়া হবে। আপনি চাইলে আপনার ওয়েবসাইটে এই জাতীয় মার্কেটিং করতে পারেন। নিজের ওয়েসাইট করে আমাদের দেশে অনেকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছেন। কাজেই আপনিও এই জাতীয় কাজ করে আয় করতে পারেন।

এই ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যারা ই-কমার্স ব্যবসা করতে আগ্রহী বা ইতিমধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছেন তারা একটি ওয়েসাইট নির্মাণ করে তাদের ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারণ করতে পারেন।

৪. ইমেইল কালেকশনঃ আমরা সবাই মোটামুটি কম বেশি নেট থেকে বই, ভিডিও, গান, হাই কোয়ালিটির ছবি/স্থিরচিত্র ইত্যাদি ডাউনলোড করে থাকি। তবে, মাঝে মাঝে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে বই বা মুভি ডাউনলোড করতে গেলে আমরা দেখে থাকি আমাদের ইমেইল অ্যাড্রেস দিতে বলে। আমরা ইমেইল অ্যাড্রেস দিলে তারপর আমাদেরকে সেটা ডাউনলোড করার সুযোগ দেয়। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন? কেন এমনটা হয়? কেন ওই ডাউনলোড সাইটগুলো ইমেইল এর ঠিকানা চায়? উত্তর হচ্ছে এই যে, আপনি গান বা ইত্যাদি ডাউনলোড করার সময় আপনার যে ইমেইল অ্যাড্রেসটি দিবেন সেটি ওই ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ সংরক্ষন করে রাখে। এই ভাবে যতজন ওই গানটি ডাউনলোড করবে ঠিক তত জনের ইমেইল অ্যাড্রেস ওই ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষের কাছে থাকবে।

উদাহরণস্বরূপ, ১০০০ জনের ইমেইল অ্যাড্রেস ওই ওয়েবসাইটের মালিকের কাছে জমা হল। এবার তিনি ওই ১০০০ ইমেইল অ্যাড্রেস বিভিন্ন ইমেইল মার্কেটারদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। কারন, অধিকাংশ ইমেইল মার্কেটিং এর জন্য অ্যাক্টিভ ইমেইল অ্যাড্রেস এর তালিকা প্রয়োজন পরে। এই জন্য বিভিন্ন ইমেইল মার্কেটাররা ইমেইল অ্যাড্রেস কিনে নেয় নিজেদের মার্কেটিং বা ব্যবসার প্রচার কাজের করার জন্য। আর আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট থাকে এবং সেখানে এই সিস্টেমটি ডেভেলপ করা থাকে তাহেল আপনি এইভাবে ইমেইল অ্যাড্রেস সংগ্রহ করতে পারেন, এবং পরবর্তীতে আপনিও এই ইমেইল অ্যাড্রেসগুলো বিক্রি করে আয় করতে পারেন।

সর্বশেষ কথা হচ্ছে, এখনই সিদ্ধান্ত নিন। আপনার ব্যবসার জন্য ‘ফ্রি প্ল্যাটফর্ম’ ব্যবহার করে সবসময় কি ঝুঁকিতে থাকবেন? নাকি নিজস্ব একটি ডায়নামিক ওয়েবসাইট নির্মাণ করে Digital Identity তৈরি করার পাশাপাশি ফ্রি প্ল্যাটফর্মগুলোকে কাজে লাগিয়ে আপনার ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারিত করবেন?

আপনার ব্যবসার Digital Identity তৈরি করার জন্য ‘ভার্সডসফট‘ সবসময় আছে আপনার পাশে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.